সর্বশেষ :

জরুরী নাম্বার সমূহ :

ব্রেকিং নিউজ :

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস


admin প্রকাশের সময় : মার্চ ২৬, ২০২৫, ৮:৩১ পূর্বাহ্ন /
আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

নিউজ ডেস্ক॥পাকিস্তানি শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে লড়াই যেদিন শুরু হয়েছিল, আজ সেই স্মৃতিময় ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। শৃঙ্খলমুক্তির আকাঙ্ক্ষার অঙ্গীকারে স্বাধীনতার সেই ঘোষণায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের পরাজিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে গ্রেপ্তারের আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের এই বার্তা তৎকালীন ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় দেশের সর্বত্র।

এরপর একই দিন ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রথমে এম এ হান্নান চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। পরে ২৭ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর (পরে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি) জিয়াউর রহমান একই কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। জিয়াউর রহমানের এই ঘোষণা মুক্তিকামী বাঙালির মধ্যে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

দিনটি বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের। ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগ ও মা-বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার কারণে বিশ্বে বাঙালিরা পেয়েছে সম্মান ও মর্যাদা। সেই স্বাধীনতা ঘোষণার আজ ৫৪তম বার্ষিকী। এই গৌরবময় দিবসকে স্মরণ করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে ২৬ মার্চকে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস এবং এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সেই সঙ্গে গোটা জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা ঘোষণার এক মাসের মাথায় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার নিভৃত আমবাগানে শপথ নেয় স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে এই সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী প্রাণপণ যুদ্ধের সফল পরিণতিতে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলার আকাশে উড়ে বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা। প্রতিবছরের মতো এবারও স্বাধীনতা দিবস সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করছে। বিটিভি, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের কর্মসূচি নিয়েছে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। আজ সরকারি ছুটির দিন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

এ ছাড়াও জেলা এবং উপজেলার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপে জাতীয় পতাকা এবং অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শন করবে। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট, কাবাডি, হাডুডু ইত্যাদি খেলার আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল মঙ্গলবার স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। দেশের সব হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

আজ দেশের সব শিশুপার্ক ও জাদুঘর বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর এবং ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা, বরিশাল ও চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে কর্মসূচি পালন করা হবে।

এসটি/এমএইচ