
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আবদুস সাত্তার ফরাজীর বিরুদ্ধে এক প্রধান শিক্ষককে ঘুষের বিনিময়ে বকেয়া টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজে তাঁকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চরফ্যাশন উপজেলার ৫১ নম্বর হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম এর আগে লালমোহন উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। ইনক্রিমেন্টজনিত বকেয়া পাওনা উত্তোলনের জন্য তিনি চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আবদুস সাত্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলামের কাছে তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থল লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ওই প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে না পারায় তাঁর বকেয়া পাওনা ছাড়ের প্রক্রিয়া আটকে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “অফিস সহকারী আবদুস সাত্তার আমার কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন। আমি টাকা না দেওয়ায় তিনি আমার সকল কাগজপত্র হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাননি।”
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অফিস সহকারী আবদুস সাত্তার ফরাজী। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির যে অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি কারও কাছে কোনো অর্থ দাবি করিনি। আমার অফিস কোনো ধরনের কাগজপত্র আটকেও রাখেনি।” তিনি বলেন, “প্রকাশিত সংবাদে প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমি যতটুকু জেনেছি, প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টাকা ছাড়ের প্রক্রিয়া আটকে যায়। বিষয়টি সম্পূর্ণ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এখানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।”
একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আবদুস সাত্তার ফরাজী।
এসটি/এম
আপনার মতামত লিখুন :