
জুলাই চার্টার সম্পন্ন হলেই বড় ধরনের সংস্কার করার আশা প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সংবিধানসহ বিভিন্ন বড় ধরনের সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য প্রয়োজন রয়েছে। সংস্কারের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আইনের এমন সংস্কার করতে সরকার কাজ করছে যেন আরেকটি ফ্যাসিবাদ গড়ে ওঠা কঠিন হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (এমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৫’ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আবারও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। প্রয়োজনে ইন্টারপোলের আবারও সাহায্য চাওয়া যেতে পারে।
মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘আমরা আইন ও বিচার ব্যবস্থার এমন একটা পরিবর্তন করতে চাই যাতে ভবিষ্যতে যদি একটা অত্যাচারী শাসক গড়ে উঠতে চায়, বা শাসকেরা রুল অব ল লঙ্ঘন করে অথবা স্বেচ্ছাচারিতা করতে চায় সেটা যেন সম্ভব না হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা আছে এটা করার, আমরা তাদের (স্বৈরশাসকদের) জন্য আইন যতটা সম্ভব কঠিন করে যেতে চাই।’
তিনি বলেন, একটা আইন করতে গেলে অনেক বিস্তারিত আলোচনা করতে হয়। সংসদে অনেকবার রিভিউ হয়, বারবার খসড়া হয়।
আগের সময়ের তুলনায় এখন সরকারের বিপক্ষে সমালোচনার অবারিত স্বাধীনতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিও আমাদের একটা বড় সংস্কার বলে আমরা মনে করছি।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আইজিপি বাহারুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিলন, ব্লাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির, পাবলিক প্রসিকিউটর মো. ওমর ফারুক ফারুকী, মো. ইকবাল হোসেন ও মো. বোরহান উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওনসহ আরও বিশষ্টিজনরা।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, এ ধরনের আলোচনা আগেও হয়েছে কিন্তু সেখানে পুলিশ থেকে কাউকে পক্ষভুক্ত করা হয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, খসড়ায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির মেডিকেল এক্সামিনেশন কথার উলে্লখ থাকলেও কারা এই মেডিক্যাল এক্সামিনেশন করতে পারবেন তার উল্লেখ নেই, এটি থাকলে ভালো হতো।
ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, খসড়ায় ম্যাজিস্ট্রেট এর শাস্তি দেওয়ার আওতা বৃদ্ধি করা একটি সময়োপযোগী ব্যাপার। তবে তা করা হলে বর্ধিত আওতার বিচারিক প্রক্রিয়াকে সঞ্চালনা করতে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের ব্যাপারে চিন্তা করতে হবে। সেইসঙ্গে ‘পুলিশ’ ও ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’কে একইভাবে সংজ্ঞায়িত না করে আলাদা আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করলে বিভিন্ন বিভ্রানি্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, এখানে যেসব চেঞ্জ (সংশোধন) নিয়ে কথা হচ্ছে, সেগুলো যথাযথভাবে করা গেলে আমি মনে করি গত ২৫ বছর ধরে যে পরিবর্তনের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি সেটা আমরা পেয়ে যাব।
চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পুলিশ এ্যাক্ট, প্রিজন্স এ্যাক্ট, প্রিজনার্স এ্যাক্ট এবং জেল কোড ইত্যাদির ভেতর থেকে ঔপনিবেশিকতা বাদ দিতে হবে।
এসটি/এমএইচ
আপনার মতামত লিখুন :