
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি।।ভোলার চরফ্যাশনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক ব্যবসায়ীর ২৫ বছরের ভোগদখলীয় কৃষি জমি দখল করে ট্রাক্টর দিয়ে জোরপূর্বক চাষ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, শশীভূষণ যুবদলের নেতা ও ছাত্রদলের এক নেতা ওই জমিতে তরমুজ চাষের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে জমির মালিক এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষি জমিতে।
অভিযুক্তরা হলেন শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন মিয়ার ছোট ভাই রসুলপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য মোশাররফ হোসেন মনজু, রসুলপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান রোমান মাষ্টার ও মালেক ডুবাই, ও ইদ্রিস হাজারী।
ভুক্তভোগী মো. নুরে আলম হলেন দক্ষিণ আইচা বাজার বস্র ব্যবসায়ী এবং রসুলপুর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত হাজী মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নুরে আলম জানান, ২০০০ সালে ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ফরহাদ হোসেনের কাছ থেকে আমার বাবা মোস্তাফিজুর রহমান রসুলপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চর শশীভূষণ মৌজায়, ৬ একর ৩৯ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগদখল ও নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছি। ২০২১ সালে ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা সেকান্তর আলী হাজারীর ছেলে ইদ্রিস হাজারী জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তিনি আরও জানান,চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইদ্রিস হাজারী আমাদের ভোগদখলীয় কৃষি জমিতে ট্রাক্টর নামিয়ে চাষ দেন। আমরা বাধা দিলে তিনি কোনো কথাই শুনছে না । পরে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করি। আদালত পুনরায় জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রবিবার সকাল থেকে শশীভূষণ থানা বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন মিয়ার ছোট ভাই যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন মনজু দালাল, ও রসুলপুর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান রোমান ও মালেক ডুবাইর নেতৃত্বে আমার জমিতে ট্রাক্টর নামিয়ে জোরপূর্বক চাষ দিচ্ছেন। আমরা বাধা দিতে গেলে তারা পুলিশের অনুমতি নিয়ে চাষ দিচ্ছেন বলে জানান।
ভুক্তভোগী নুরে আলম জানান, বিষয়টি জানতে শশীভূষণ থানার ওসি ফকরুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তার কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। আমি আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন, জমির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উক্ত জমির পাশে একটি টং ঘর তুলে সার, বীজ সহ প্রয়োজনীয় মালামাল রাখা হয়েছে। পাশে কৃষি জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা হচ্ছে। এ সময় ট্রাক্টর চালক রাসেদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, জমিতে তরমুজ চাষ করা হবে, বিএনপি নেতা মঞ্জু ও যুবদল নেতা নোমান তাঁকে জমিতে চাষ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের অনুমতি পেলে জমি চাষ বন্ধ রাখবো।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, উক্ত জমিটি দীর্ঘদিন ধরে নুরে আলম গংদের ভোগদখলে ও চাষাবাদ করে আসছেন। হঠাৎ প্রভাবশালী লোকজন ট্রাক্টর এনে জোর করে চাষ দেওয়া শুরু করেছে, যা খুবই দুঃখজনক। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে এলাকায় উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা মঞ্জু দালাল ও ছাত্রদল নেতা রোমান বলেন, এই জমিতে তরমুজ চাষ করার জন্য আমরা পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ কৃষি কাজ চালানো, কোনো ঝগড়া করা নয়। পুলিশ বললে আমরা জমিতে আর চাষ দিবো না।
শশীভূষণ থানার (ওসি) মো.ফকরুল ইসলাম জানান, পুলিশ জনগণের বন্ধু। সবসময় জনগণের সেবা করতে চাই। আদালতের পক্ষ থেকে যদি কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি হয়, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসটি/এম
আপনার মতামত লিখুন :