জরুরী নাম্বার সমূহ :

বাউফলে বাচাঁর আকুতি ক‍্যান্সারে আক্রান্ত জহিরের


Songbad Times প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ন /
বাউফলে বাচাঁর আকুতি ক‍্যান্সারে আক্রান্ত জহিরের

মো. দুলাল হোসেন বাউফল প্রতিনিধি :অর্থাভাবে ও চিকিৎসার অভাবে নিভে যাচ্ছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার জহিরুল ইসলাম (৩১) নামের এক যুবকের জীবন প্রদীপ। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত এই যুবকের বাঁচা মরার লড়াই এখন নির্ভর করছে মানুষের সহানুভূতি আর মানবিক সহায়তার ওপর।

জহিরুল বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলতাফ হোসেনের ছেলে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী জহিরুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। চার বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মাকে নিয়ে চলছিল তার স্বাভাবিক জীবন।

কিন্তু ২০২৫ সালের শুরুতেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। হঠাৎ জ¦র, তীব্র পেটব্যথা, আমাশা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্থানীয় চিকিৎসক থেকে শুরু করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসা নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর (সাবেক পিজি) ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাসের কাছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা যায় জহিরুল লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় দুই মাস চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা তাকে ভারতের হায়দরাবাদের একটি ক্যান্সার হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ভিসা জটিলতায় সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়।

শেষ আশাটুকু নিয়ে গত ২৬ আগস্ট জহিরুল চিকিৎসা নেন চীনের ফুদা ক্যান্সার হাসপাতালে। সেখানে এক মাস চিকিৎসায় ব্যয় হয় প্রায় ৩২ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারকে বিক্রি করতে হয়েছে তাদের একমাত্র বসতভিটা। তবুও চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। শেষ হয়ে গেছে সব সঞ্চয়, সব সম্বল।

আজ জহিরুল তার অসুস্থ শরীর আর ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাউফল উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বোনজামাই মনজুরুল আলমের বাড়িতে। চিকিৎসকদের মতে, আরও তিনটি কেমোথেরাপি, নিয়মিত ওষুধ এবং পুনরায় চীনে চিকিৎসা নিলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু অর্থের অভাবে কেমোথেরাপি তো দূরের কথা প্রতিদিনের ওষুধও কিনতে পারছেন না।প্রতিদিন শুধু ওষুধেই প্রয়োজন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা।

ছেলের শয্যার পাশে বসে মা মমিন নেচ্ছা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “চোখের সামনে আমার ছেলেটা ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। আমি একজন মা হয়ে কিছুই করতে পারছি না। সরকার বা কোনো হৃদয়বান মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আমার সন্তানটা আবার বাঁচার সুযোগ পাবে।”

এক সময়ের কর্মঠ, হাসিখুশি এই যুবক আজ নিঃশব্দে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। মানবিক সহানুভ‚তির অপেক্ষায়। সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু মানুষের একটু সহায়তাই পারে একটি প্রাণ ফিরিয়ে দিতে।

জহিরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য সহায়তা পাঠাতে আগ্রহীরা: সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, পান্থপথ শাখা, ঢাকা।
হিসাব নম্বর: ০০৫০১২০০১২৯০৪ (হিসাব নাম: জহিরুল ইসলাম)

এছাড়া বিকাশ ও নগদ নম্বর: ০১৮৫৫৭৭৮৯৬৮ অনুদান পাঠাতে পারেন। একটি জীবন বাঁচাতে আজ জহিরুলের চোখ দুটি তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।

এসটি/এম