
মো. দুলাল হোসেন,বাউফল প্রতিনিধি :ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রকৃতি নতুন রুপ ধারন করে ফুল-ফল ও নির্মল সজীবতায় পৃথিবীকে সাজিয়ে তোলে অপরুপ সাজে ঠিক তেমনি পটুয়াখালীর বাউফলে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ও মৌমাছির আনাগোনায় মুখরিত হয়েছে পুরো বাউফলের জনপদ।এ যেন প্রকৃতির এক নির্মল সৌন্দর্য।
বাউফলে পারিবারিক ও সামাজিক উদ্যোগে গড়ে উঠা বিভিন্ন আমের বাগানগুলো এখন শুধুই মন কেড়ে নিচ্ছে পথিকদের। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি।
তাইতো রবী ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয় ও মা ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রানে পাগল করে….আমগাছের সোনালী রঙের মুকুলে প্রকৃতি যেন নিজের খেয়ালে সাজিয়ে রেখেছে। মুকুলগুলো দেখতে যেমন ভালো লাগছে তেমনি মৌমৌ গন্ধে ভরে উঠেছে বাউফল জনপদের আকাশ- বাতাস। আম চাষীদের মুখে হাসি বুকে বল।এ যেন মধু মাসের আগাম বার্তা দিচ্ছে প্রকৃতি। বাগানে মৌমাছির দল গুনগুন শব্দ করে মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। তাদের গুনগুনাগুন সুরে মুখরিত হচ্ছে প্রকৃতি।এই দৃশ্য দেখা গেছে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার আমের বাগান গুলোতে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন আমের বাগানে ও বাসা বাড়ীতে রোপন করা আম গাছগুলোতে দেখা গিয়েছে পর্যাপ্ত সোনালী মুকুল। বাউফলের প্রতিটি বাড়িতে অন্যান্য গাছের সাথে বিচ্ছিন্ন ভাবে রোপন করা আম গাছ রয়েছে অনেক। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অধিক পরিমানে গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে।
সদর ইউনিয়নের বিলবিলাসের আলতাফের ঘের এলাকার জালাল মৃধা জানান, এই বছর আমের মুকুল অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে এছাড়া নতুন কয়েকটি গাছে মুকুল এসেছে। আশা করছি ভালো আম পাওয়া যাবে। মদনপুরা ইউনিয়নের বশির বলেন, আমাদের বাগানে অন্যান্য গাছের সাথে ছোট বড় প্রায় ২৫টির বেশি আমগাছ রয়েছে। এবছর সবগুলো গাছে পর্যাপ্ত পরিমান আমের মুকুল এসেছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবার অনেক আম হবে বলে আশা করছি।
কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা নুরজাহান পার্কের স্বত্বাধিকারী এ্যাডভোকেট শাহবাজ মিল্টন বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর প্রচুর মুকুল দেখা যাচ্ছে অনুকূল পরিবেশ থাকলে দেশী ও বিদেশী জাতের আমের ব্যাপক ফলন আসবে। আশা করি গত বছরের তুলনায় এ বছর অর্থনৈতিকভাবে লাভবান বেশী হব ইনশাআল্লাহ।
বাউফল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাউফলে এ বছর বানিজ্যিক ভাবে প্রায় ১৫৮ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা রয়েছে।
এছাড়া উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে অন্যান্য গাছের সাথে আমগাছ রয়েছে। আমের জাতের মধ্যে রয়েছে স্থানীয়, আম্রপালি, বারি-৪, ক্যাটিমন ও ব্যানানা জাত। বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.মিলন জানায়, বাউফলে সবচেয়ে বেশি পরিমান আমগাছ মানুষের বাড়িতে। মুকুল আসার পরে বাড়ির গাছগুলোর কোনরকম যত্ন না করার কারনে আশানুরুপ আমের গুটি আসেনা। আবার গুটি আসলেও ঝড়ে যায়। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমরা বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছি। আশা করছি কৃষকেরা ভালো ফলন পাবে।
এসটি/এম
আপনার মতামত লিখুন :