জরুরী নাম্বার সমূহ :

ভোলায় নদীর পানি বৃদ্ধিতে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ


admin প্রকাশের সময় : মে ৩১, ২০২৫, ১:১৭ পূর্বাহ্ন /
ভোলায় নদীর পানি বৃদ্ধিতে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ভোলায় নদ-নদীর পানি হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক, ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক গবাদি পশু।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় মনপুরা, তজুমদ্দিন, বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বিশেষ করে মনপুরার কলাতলী, ঢালচর ও সাকুচিয়া এবং চরফ্যাশনের কুকরি-মুকরি, ঢালচর ও চরপাতিলা এলাকায় জোয়ারের পানিতে হাজার হাজার মানুষ আটকে পড়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এপর্যন্ত দেড় হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় ৮৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং ১৪টি মাটির কেল্লায় মানুষ ও গবাদি পশু আশ্রয় নিয়েছে। সিপিপি, রেডক্রিসেন্ট ও অন্যান্য সংস্থার প্রায় ১৩,৮০০ স্বেচ্ছাসেবী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছেন। মোতায়েন রয়েছে ৯৭টি মেডিকেল টিম।
দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ভোলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব নৌ-রুট। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে, ফলে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

ভোলা জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তিন ধাপের প্রস্তুতি—পূর্বপ্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

ত্রাণ কার্যক্রম হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯১ মেট্রিক টন চাল, দেড় হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট ও ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য বিতরণ শুরু হয়েছে। সব সরকারি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে।

দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এসটি/এমএইচ