
ভোলা প্রতিনিধি॥ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার লামছি শম্ভুপুর গ্রামে তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর কবির (৩৫) নামে এক বাক-প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১ জুলাই) সকালে একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিবার এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ৭নং ওয়ার্ডের রাড়ী বাড়ি এলাকায় থালা-বাসন ধোয়ার জন্য পুকুরে যান এক গৃহবধূ, রাবেয়া বেগম। হঠাৎ তিনি পুকুরে ছোট মাছের অস্বাভাবিক আচরণ দেখতে পেয়ে কাছে গিয়ে লাশটি দেখতে পান এবং সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দিলে তজুমদ্দিন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের মা রোকেয়া বেগম জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তার ছেলে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন সোমবার দুপুরে কবিরকে তার চাচা খালেকের ছেলে রিয়াজ, রত্তন ডুবাইর ছেলে রাসেল ও সাহে আলমের ছেলে আলাউদ্দিন মিলে ঘরের পেছনে ডেকে নিয়ে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে মারধরের চেষ্টা করে। তখন কবির দৌড়ে এসে বিষয়টি মাকে জানান। এরপরই সে নিখোঁজ হয়।
কবিরের স্ত্রী সুমা বেগম বলেন, “দুই দিন খোঁজাখুঁজির পরেও সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার আমরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। কিন্তু আজ সকালে তার লাশ পাওয়া গেল পুকুরে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বৃহস্পতিবার থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, কবিরের প্রতিবন্ধকতাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এসটি/এম
আপনার মতামত লিখুন :